ফেসবুকে সমকামিতার ফাঁদ, প্রতারকদের খপ্পরে বিভিন্ন বয়সী মানুষ

অপরাধ পাঁচমিশালি
Spread the love

সমকামীদের ফেসবুক গ্রুপ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব। কথা চালাচালির এক পর্যায়ে সমকামী সেজে ছবি আদান-প্রদান। তারপর শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব। রাজী হলেই দেয়া হতো বাসার ঠিকানা। বাসায় এলেই ফাঁদ। ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নেয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।

ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের কথা মতো বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে চার-পাঁচজন লোক বসে আছে; তারা আমাকে আটকালো। পরে বলে এখান থেকে যেতে হলে তিনলাখ টাকা দিতে হবে।

চক্রের সদস্যরা সমকামিতার অভিনয় করে কয়েকধাপে কাজ করতো। কেউ ফেসবুকে বন্ধুত্ব, কেউ আবার বাসায় নিয়ে আসতো। বিভিন্ন বয়সীদের ফাঁদে ফেলে কয়েকজন মিটমাট করে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতো।

এক প্রতারক জানান, রাতে ছবি দেয়া হতো। তখন ওই লোক বলতো; তোমার বাসা ফ্রি আছে। আমি বলতাম বাসা ফ্রি আছে। পরে একজন বাসায় নিয়ে আসে।

আরেক প্রতারক জানান, একজন লোক নিচে থাকে, তারা বাসার উপরে গেলে সে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়। তখন বাকিরা উপরে যায়। তখন সে মান ও সম্মানের ভয়ে আমাদের কাছে ক্ষমা চায়।

বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে প্রতারকরা। কয়েকটি অ্যাকাউন্টে দেখা যায়, বহু মানুষকে খপ্পরে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

পুলিশ বলছে, যারা ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারাও এক ধরনের অপরাধ করছেন। কারণ সমকামিতা অবৈধ।

গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, করোনা মহামারীতে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এতে তারা নতুন প্রতারণা নিয়ে সামনে আসছেন। বাংলাদেশে এই কালচার এখনো স্বীকৃত না এবং আইনসম্মত না। এখানে যারা প্রতারণার শিকার হন; তাদেরও একধরনের নৈতিক দেউলিয়াত্ব ঘটে। তাদের ঘরে স্ত্রী রয়েছে; এরপরও তারা এধরনের বিকৃত অনুশীলন করতে চায়।

এ ধরনের অভিনব প্রতারণা বন্ধে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান পুলিশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *